Home / শিক্ষা / প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস (কারিকুলাম) সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলমান করোনা মহামারির কারণে শিক্ষার্থীরা যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তা পুষিয়ে নিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে বলে জানা যায়। আগামী সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হলে শিক্ষাবর্ষ না বাড়িয়ে ডিসেম্বরে তা শেষ করা হবে। তবে পঞ্চম বা অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা ২০২১ জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে নেয়া হবে। জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে আলাদা করে সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।

 

ইতোমধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সার্বিক দিক মূল্যায়ন করে খুব শিগগিরই এটি কার্যকর করা হবে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে না। মন্ত্রণালয়ও বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আগে কোনোভাবেই প্রতিষ্ঠানের খোলা সম্ভব না।

 

এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুনভাবে এ চিন্তা করছে মন্ত্রণালয়। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাখতে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গত ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে। আগামী ৬ আগস্ট পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, ছুটি বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তবে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা সেশনজটে পড়বে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়। জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম আল হোসেন জানান, দীর্ঘ বন্ধে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমরা টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। তবুও অনেক শিক্ষার্থী শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সবার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে নতুনভাবে চিন্তা করতে হচ্ছে আমাদের। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান খোলার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরা

 

যাতে খুব দ্রুত তাদের সিলেবাস শেষ করতে পারে সেজন্য একটা পরিকল্পনা রয়েছে। শ্রেণিভিত্তিক মৌলিক সক্ষমতা বা কোর কম্পিটেন্ট অর্জনে বিষয় চিহ্নিত করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করার জন্য জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বছরের শুরুতেই সারা বছরের পাঠপরিকল্পনা নির্ধারণ করা ছিল। সংশোধিত সিলেবাস সেটাকেও রিভাইস করতে বলা হয়েছে। আর পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার বিষয়ে মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষা প্রয়োজনে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নেবো। পরবর্তী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা সম্ভব হবে। যদি সেপ্টেম্বরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা না যায় তাহলে কী হবে জানতে চাইলে সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে পরে ভাবতে হবে। আমরা এখন সেপ্টেম্বরটা মাথায় রেখে কাজ করছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, দুই মন্ত্রণালয় বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সরকারের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তথ্যসূত্রঃ আলোকিত বাংলাদেশ

About admin

Check Also

বিকাশের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ পাওয়ার নিয়ম

ডিজিটাল ঋণের যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। আর এই সফলতার পেছনে মূল অবদান রাখছে সিটি ব্যাংক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *